ভারতের ‘ঘুম ভাঙানোর’ বার্তা

শিরোনাম ডেস্ক

গল্পে কোনো বাঁক নেই। সরলভাবে শেষ হলো। নিউ জিল্যান্ড দৃঢ়চেতা ও ঠাণ্ডা মেজাজের মনোভাব নিয়ে রোববার আফগানিস্তানকে হারাল। সুপার টুয়েলভের শেষ দিন ভারত-নামিবিয়ার ম্যাচ নিয়ে যে তোরজোড় ছিল, তা এক নিমিষেই শেষ। মানে নিউ জিল্যান্ডের এই জয়ে তারা তো সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছেই, সঙ্গে ভারতের বিদায়ও নির্ধারণ হয়ে গেছে।

শত কোটি ভারতবাসীর প্রার্থনাও জেতাতে পারেনি আফগানিস্তানকে। যেই মুজিব উর রহমানের হাতে নিউ জিল্যান্ডের স্বপ্ন দেখছিল ভারত, তা খুব একটা কাজে লাগেনি। ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। হট ফেভারিট হয়েই টুর্নামেন্টে যোগ দিয়েছিল ভারত, তারাই কি না শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য নির্ভর করল আফগানিস্তানের মতো দলের ওপর।

২০০৭ সালের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ২০১২ সালের পর প্রথমবার সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিলো। ২০১৪ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে রানার্সআপ ও ২০১৬ সালে সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বিদায় নেয় ভারত। আবারো সেই কিউইরাই মাঠের বাইরে থেকেই বিদায় করে দিলো বিরাট কোহলিদের।

অবশ্য এই বিপত্তির শুরুটা তো হয়েছিল নিউ জিল্যান্ডের কাছে সুপার টুয়েলভের দ্বিতীয় ম্যাচ হেরেই। পাকিস্তানের কাছে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে ১০ উইকেটে হার দিয়ে শুরু। তারপর ব্ল্যাক ক্যাপদের কাছে ৮ উইকেটে হারের ধাক্কা জোরেশোরে লাগে। ওই ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় ভারত নাকি নিউ জিল্যান্ড সেমিফাইনালে।

কোহলিদের উচ্চাশা ছিল নিউ জিল্যান্ড নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড ও আফগানিস্তানের যে কারো কাছে হারবে। আর শেষ তিন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের টিকিট নিবে। ভারত আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছিল। কিন্তু নিউ জিল্যান্ড সতর্ক ছিল, মুজিব-রশিদদের স্পিনে দুর্বলতা প্রকাশ করেনি। ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচটি জিতে নিলো ১১ বল হাতে রেখে।

টানা তৃতীয় সেমিফাইনাল খেলা হলো না ভারতের। আগেভাগে বিদায় নিতে হলো। আর আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের দুর্বলতা। কোহলি ও বিদায়ী প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রীর অধীনে ভারতের কেবল ব্যর্থতার গল্প। টেস্ট ক্রিকেট ও সাদা বলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দারুণ সাফল্য পেলেও কোহলি-শাস্ত্রী জুটিতে নেই কোনো আইসিসি ট্রফি। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের কাছে হার এবং গত জুনে প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পরাজয়, এই দলটির কাছেই।

বলা হচ্ছিল, বিশ্বকাপের ঠিক আগে দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইপিএল দিয়েই প্রস্তুতি সারবেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন লোকেশ রাহুল, কোহলি, যশপ্রীত বুমরারা। কিন্তু পাকিস্তান-নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বোঝা গেছে, মাসখানেক ধরে আইপিএল খেলা তাদের প্রস্তুতির চেয়ে ক্লান্তই বেশি করেছে। বিসিসিআইর প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলিও বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করেননি। বেশিরভাগ বিদেশি তারকারা প্রাণবন্ত থাকতে এই মেগা ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান।

২০১৩ সাল থেকে আইসিসির সব ইভেন্টে একমাত্র দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার গর্বিত রেকর্ড হাতছাড়া করল ভারত। আগেভাগে এই বিদায় শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, প্রশাসনের জন্যও জাগরণী বার্তা।

নতুন প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড় ও নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সম্ভবত রোহিত শর্মাকে দ্রুত সামনের বছরের বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নিতে হবে। আগামী অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাচ্ছে এই আসর। টিমের কম্বিনেশন নিয়ে গুরুতরভাবে ভাবতে হবে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের। ভয়-ডরহীন ক্রিকেটই টি-টোয়েন্টির সঙ্গে যায়, অথচ প্রথম দুই ম্যাচে ভারত খেলেছে ভাবলেশহীন। যেন হারার আগেই হেরে গেছে। বিশেষ করে রাহুল রোহিত ও কোহলির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা ও ইনজুরিতে ফিটনেসের সঙ্গে ভুগতে থাকা হার্দিক পান্ডিয়াকে খেলানো বড় বিপত্তি তৈরি করেছে।

ভারতীয় দলের বোলিং অপশনেও কিছুটা রয়েছে ঘাটতি। তাদের টপ অর্ডারদের কেউই বল নিয়ে হাত ঘুরাতে অভ্যস্ত নয়। আগামী কয়েক মাস ভারতের অনেক টি-টোয়েন্টি সূচি রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগে বিদায়ের আক্ষেপকে শক্তিতে পরিণত করে বড় মঞ্চে সফল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে কি না দেখার অপেক্ষা। এই ব্যর্থতাকে বলা চলে ভারতের ‘ঘুম ভাঙানোর’ বার্তা।

কেআরআর

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!