রসে ভরা মধুফলের মাস

শিরোনাম ডেস্ক

জৈষ্ঠ্য মাসে পাকা আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, তরমুজ, ডেউয়া, লটকন, কালো জাম, গোলাপ জাম, বেতফল, গাব, জামরুল, আতাফল, কাউ, শরীফাসহ নানা ফল আসা শুরু হতে থাকে। মধুর স্বাদের হরেক ফল। মধু স্বাদের ফল পাওয়া যায় বলে কেউ কেউ এই মাসের নাম দিলেন ‘মধু মাস’।

ফলের স্বাদে মাসের নাম ফলাও হয়ে ঘুরতে থাকলো মানুষের মুখে মুখে। মিডিয়াতেও প্রচার হতে থাকলো জৈষ্ঠ্য মাসের আরেক নাম মধুমাস। এই চর্চাটা শুরু হয় আশির দশকের দিকে। কিন্তু আদতেই কি জৈষ্ঠ্য মাসের নাম মধু মাস? একদমই নয়, আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, পল্লী সাহিত্য, ঐতিহ্য, ইতিহাস বলে অন্য কথা। মধুমাস বলতে যাকে বোঝায়, তা হলো, চৈত্র মাস।

এ বিষয়ে লেখক, গবেষক ও ইতিহাসবিদ ড. মোহাম্মদ আমীন বলেছেন, ‘মধুমাস শব্দের অর্থ চৈত্র মাস। অনেকে জ্যৈষ্ঠ মাস অর্থে শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। এটি অশুদ্ধ। মধুমাস কেবল চৈত্র মাসকে বোঝায়।’

দৌলত উজির বাহরাম খান বলেছেন, ‘মধুমাসে উতলা বাতাস, কুহরে পিক; যদি সে কমল শিশিরে দহল কি করিব মধুমাসে।’ এখানে তিনি চৈত্র মাসের কথাই বলেছেন। কারণ, চৈত্র মাসে কোকিল ডাকে, মধুমাস মানেই চৈত্রমাস। কবিগুরু তাঁর রবিচ্ছায়ায় বলেছেন, ‘আজি মধু সমীরণে নিশীথে কুসুম বনে তাহারে পড়িছে মনে বকুল তলে, এই মধু সমীরণের বর্ণনা বসন্তের বাতাসের চেয়ে আর কিছুতে এতটা মল খায় না।’ গানে তো আরও বেশি উদলা করে দিয়েছেন কবি, ১৩০৪ বাংলায় লেখা গানটিতে ‘আজি উন্মাদ মধুনিশি ওগো চৈত্রনিশীথশশী। তুমি এ বিপুল ধরণীর পানে কী দেখিছ একা বসি চৈত্রনিশীথশশী।’

বলাই যায় মধুমাস মানেই চৈত্র, কী আভিধানিক কী দালিলিক সূত্রে। আর জৈষ্ঠ্যকে মধুমাস বলাটা আরোপিত বা অশুদ্ধ চর্চাই বলা চলে। মধুমাসের (!) মধুফল নিয়ে না বলে আজ বলতে চাই জৈষ্ঠ্যের মধুফল নিয়ে কিছু কথা, রাখতে চাই বিবর্তনের কষাঘাতে কিংবা আধুনিকতা বা আভিজাত্যের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে বিলীনের পথে হাঁটতে থাকা কিছু ফলের কথাও। চৈত্র পেরিয়ে বোশেখ ছাড়িয়েই আসে জৈষ্ঠ্য। আমাদের ছোটবেলায় এই সময়ে যেসব ফল খেতাম সেগুলো এবং যেগুলো লুপ্তপ্রায়, সেসবের কথা নব প্রজম্মকে জানিয়ে দিয়ে যাই।

আমাদের গ্রামের জয়ন্তদের টিনের চালের উপর ছিল এক কামরাঙ্গা গাছ। গাছের পাতার রঙয়ের সাথে রঙ মেশানো থোকা থোকা কামরাঙ্গা। পেকে গেলে লোভ ধরা হলুদ রঙ ধারণ করতো, দেখতে এক অপূর্ব লাগতো। কামড়ে কামড়ে রস যেন ছিটে ছিটে পড়তো। নারকেল গাছের কোটরে থাকা টিয়েদের দাপাদাপি চলতো দিনের বেলা, আর পলাশের ডালে উপুর হয়ে ঝুলে থাকা বাঁদুররা এসে কামরাঙ্গা গাছে রাজত্ব চালাতো রাতের বেলা। টিয়ে আর বাঁদুর তাড়ানোর অভূতপূর্ব কৌশল সৃষ্টি করেছিলেন জয়ন্তের মা। একটা মুড়ির টিনের তলা ফুটো করে গাছের ডালের ঝুলাতেন, টিনের ভেতর পেন্ডুলামের মত ঝুলানো থাকতো একটা ইটের টুকরো। রাতের বেলা রশির এক মাথা পেন্ডুলামে, অন্য মাথা জয়ন্তের মায়ের পায়ে বাঁধা থাকতো। পা নড়তো তো পেন্ডুলাম ঝুলত, টিনে টুংটাং আওয়াজ হতো, বাদুররা ত্রি-সীমানা পার। তবুও সকালবেলা কতশত পাকা কামরাঙ্গা মাটিতে বিছিয়ে থাকতো, আর কিছু আটকে থাকতো টিনের চালে।

আমার বন্ধুর বোন বুড়ী, বিয়ের পর থেকে আজও কলকাতায়। এত বছরে দেশে আসা হয়নি তার। সেবার কলকাতায় যাবার আগে খুব মায়া করে বললো, কাকু অনেক বছর লটকন খাই না, আমার জন্য ৪/৫টা লটকন নিয়ে এসো। যাবার বেলায় এক থোকা নিয়ে গেলাম। সে কী উচ্ছ্বাস তার! অথচ তার ক্যালকিশিয়ান বর-মেয়ে যেন অবাক, এটা আবার কী? এটা কীভাবে খায়, খেতে কেমন? বুড়ি, সব লটকনের খোসা ছড়িয়ে লংকা- নুনে মেখে এদের দিলো, এদের চোখে-মুখে জীবনে প্রথম কিছুর স্বাদ আস্বাদনের বিষ্ময় দেখলাম, আর বুড়ির মুখে দেখলাম হারিয়ে যাওয়াকে ফিরে পাওয়ার তৃপ্তি। কলকাতায় নাকি লটকন খায় বাঙালে, (যারা এদেশ থেকে গেছে) ঘটিরা (পরম্পরায় যারা ওখানে থাকেন) চোখেও দেখেনি।

কাঁঠালের কুঁড়ির কথা মনে আছে? আমরা বলতাম মুছি। পাকা তেতুলে নুন-লংকা-তেতুল মেখে তা মুছিতে লাগিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতাম। আহ, আজও মনে পড়লে জিভে জল আসে। এই কুঁড়িরা আবার দুই রকমের হয়। একটা বড় হয়ে কাঠাল হতো, আর মুছিগুলো ঝরে যেত। একবার তো মুছি খেতে গিয়ে ভুলে কাঠালের কুঁড়িই খেয়ে ফেলেছিলাম, কেমন যেন বিস্বাদ বিস্বাদ!

জাম-জামরুল- কদবেল, আতা–কাঁঠাল, নারকেল, খুব সুর তুলতাম। আমাদের পাড়ায় একটাই জামরুল গাছ ছিল। বকুল বৌদির গাছ। থোকায় থোকায় সাদা রসালো জামরুল। তক্কে তক্কে থাকতাম, কখন বকুল বৌদির দরজার ঝাঁপি বন্ধ হয়। ভীষণ দজ্জাল ছিলেন সন্তানহীনা বৌদি। রাতে বৃষ্টি হলে তো আমাদের পোয়াবারো। গাছের তলায় সাদা হয়ে পড়ে থাকতো জামরুল। একদিন বৃষ্টি ভেজা রাতে, জামরুল কুড়াতে গেলাম, ঠিক কুড়ানো না, বলা যায় চুরি করতেই। জামরুল কুড়াচ্ছি আর কোচর ভরছি, ঠিক পেছনে নিকশ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে বকুল বৌদি, সাদা শাড়িতে ছাতা মাথায় দশাসই বকুল বউদি। দরাজ গলায় হাঁক- ধর ধর। আমরা পড়ি- কি মরি করে দে দৌড়, পিচ্ছিল রাস্তায় আছাড় খেতে খেতে বাড়ি এলাম, এই প্রথম যেন শরীরি ভূত দেখলাম।

জলডুগি আনারস, ছোট ছোট নীল-হলুদে লোভনীয়। বাজারে থরে থরে সাজানো, এখন রিকশা ভ্যানেও সেজে থাকে। মৌ মৌ গন্ধ। কিন্তু আনারসে আমাকে টানতো না মোটেই। খেলেই জিভ চুলকাতো। সেবার যখন জ্বর তাড়নোতে মা লংকা-নুনে জলডুগি আনারসের টুকরো মুখে ভরে দিলেন, গাল বেয়ে রস চুইয়ে বালিশে পড়ছিল। জলডুগি সেই রসে এরপর থেকে জলডুগি দেখলেই জ্বর জ্বর লাগে। তবে লোভ সামলাতে পারি না আজও। সেবার টাঙ্গাইল যেতে মধুপুরে সড়ক দ্বীপে দাঁড়িয়ে থাকা আনারসগুলো দেখে ছোটবেলার সেই স্মৃতি মনে পড়েছিল।

আমলকীর হাজার গুণ। পরতে পরতে স্বাদ বদল হয়। মুখে দিলে এক স্বাদ, চিবুলে আরেক স্বাদ, আবার আমলকী খেয়ে জল পান করলে মিঠা স্বাদ। গ্রামে থাকতাম বলে আমলকী পেতাম না তেমন, তবে শহরে এলে আমলকী খেতাম প্রচুর। প্রচুর ভিটামিন সি’র আধার। আজকাল বাজারে আমলকী সয়লাবের পর্যায়ে, ইয়া বড় ডাউস সাইজের আমলকী, যার আরেক নাম আমলা।

ডেউয়া। আমি বলতাম এমিবা ফল। এর নিজস্ব কোনো আকৃতি নাই, একেকটার একেক আকৃতি। এবড়ো-থেবড়ো, যেমন-তেমন। একই আকারের দুইটা ডেউয়া কেউ কখনো দেখেছে কি না আমার জানা নেই। গাঢ় হলুদের মখমলে মোড়ানো আদুরে শরীর। বস্ত্র উম্মোচনের পরেই ভেতরে তাজ্জব রূপ। একেবারেই কাঁঠালের মিনি ভার্সন। পাকা কাঁঠালের ভেতরে যা যা আছে সবই আছে ডেউয়ার ভেতরে, আকারে ছোট ছোট, এই যা। অপূর্ব স্বাদের এই ফলটা এখন প্রায় বিলুপ্ত। কারো ডেউয়া খেতে ইচ্ছে করলে যেন মানত করতে হয়। মাঝে মধ্যে কোথাও কোথাও উদয় হতে দেখা যায়।

গাঢ় হলদে রঙ, থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে, টক-মিষ্টির অপূর্ব স্বাদের ফল, আমরা বলতাম কাউ। কই যে গেলো এসব! ভেতরে কোয়া কোয়া। কাউ ফলকে আমরা মধ্যিখান দিয়ে গোল করে কেটে ভেতরের ফলটা বের করে আনতাম, খোসাটা একটা বাটির মতো। সেই বাটিতে আমরা দই পাততাম, আর চুমুক দিয়ে দিয়ে খেতাম। ভুলি নাই আজও।

বাহিরটা সাদা, একটু ঘি ঘি গন্ধ, ভেতরটা টকটকে লাল। বন্ধু অঞ্জনদের বাড়িতে এমন পেয়ারা গাছ ছিল। পাকাপেয়ারার লোভ দেখিয়ে অঞ্জনের বাবা আমাদের দিয়ে অনেক কাজ করিয়েছেন। পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করা থেকে উঠোনের দূর্বা ঘাস সাফাই পর্যন্ত। এখন আর ঘিয়ের গন্ধের লাল পেয়ারা খুব একটা দেখি না, সেই জায়গা দখল করেছেন কাজী সাহেব।

লাল শাড়িতে সাদা ছাপ। এমন রূপবতী ফল হচ্ছে করমচা। কাঁটায় ভরা গাছ, ছিড়তে গেলে আঠালো কষে হাতের আঙ্গুল লেগে থাকতো। আমরা করমচার আঠায় আঙ্গুলগুলো একসাথে করে বিকলাঙ্গ সেজে ভিক্ষা করার ভান করেছি কত! করমচা চুরিতে আমাদের হাত-পিঠ ক্ষত-বিক্ষত হয়নি, এমন নজির কমই ছিল।

আসছি এবারে জৈষ্ঠ্যের রথী-মহারথীকে নিয়ে। কে রথী কে মহারথী তা নিয়ে ভোটাভুটি চলতেই পারে। বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল যদি রথী হয়, ফলের রাজা আম হবে মহারথী, খুবই সহজ হিসাব, কিন্তু স্বাদ, প্রাপ্যতা, গুণাগুণ, নানা বিচারে কেউ কাঁঠালকে কেউবা আমকে এগিয়ে রাখে। তবে দুটোই যে আমাদের কাছে সমাদৃত, তা বলার জন্য ঠেলাঠেলি করতে হয় না।

ফলের রাজা আম-রাজকীয় ফল। বরেণ্য কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার বাদশাহ নামদার উপন্যাসে আম নিয়ে একটা কোটেশন করেছিলেন, আমার কাছে এটা আমের মতোই সুস্বাদু লেগেছিল, ‘বাঙ্গালমুলুক থেকে কাঁচা আম এসেছে। কয়লার আগুনে আম পোড়ানো হচ্ছে। শরবত বানানো হবে। সৈন্ধব লবণ, আখের গুড়, আদার রস, কাঁচা মরিচের রস আলাদা আলাদা পাত্রে রাখা। আমের শরবতে এইসব লাগবে। দু‘জন খাদ্য পরীক্ষক প্রতিটি উপাদান চেখে দেখছেন। তাদের শরীর ঠিক আছে। মুখে কষা ভাব হচ্ছে না, পানির তৃষ্ণাবোধও নেই। এর অর্থ উপাদানে বিষ অনুপস্থিত। সম্রাট বাবরকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর থেকেই বাড়তি সতর্কতা।’

আমের জন্মকথা নিয়ে নিয়ে প্রচুর কথা প্রচলিত আছে। বলছি দুই-একটার কথা। ভারতীয় মাইথোলজি বলে, এটি এসেছে স্বর্গ থেকে। লঙ্কারাজ রাবণপুত্র মেঘনাদ ইন্দ্রপুরী করে ফেরার পথে হাজারেরও বেশি ফলের সঙ্গে পরিচিত হন। তারমধ্যে একটা ফলের নাম ছিল শ্রীফল এবং সেটিকেই শ্রেষ্ঠ মনে করে লঙ্কায় নিয়ে আসেন। সঙ্গে আনেন ওই ফলের বীজ ও চারা। এই শ্রীফলই আম। সেখান থেকেই তা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে। এরপরে এটি কীভাবে বিস্তার পেলো, তা নিয়েও কথা বলেছে প্রাচীন মিথ। রামচন্দ্র যখন লঙ্কার দিকে দলবল নিয়ে এগোচ্ছিলেন, তখন হনুমান ছিলেন অগ্রবর্তী দলে। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে লঙ্কায় পৌঁছানোর পর গাছে গাছে পাকা আম দেখতে পান হনুমান। সেই ফলের স্বাদ তাকে মুগ্ধ করে। আম খেয়ে খেয়ে সুমুদ্রের দিকে আঁটি ছুড়ে মারতে লাগলেন হনুমান। তা সমুদ্র পার হয়ে তামিলনাড়ু অঞ্চলে গিয়ে পড়ল। শুরু হলো তামিলনাড়ুতে আমারে ফলন। সেখান থেকে আম মুম্বাই, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, সিন্ধু, পাঞ্জাব ও বাংলায় এসে পৌঁছেছে। আম নিয়ে বলতে গেলে এক ইতিহাস হয়ে যাবে, সেসব না হয় এখানে নাইবা বললাম। তবে আমের শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত আছে বলা যায়। কেউ কেউ বলে খৃষ্টপূর্ব ৫০০ বছর আগে আমের জন্ম। গবেষকদের মতে বাংলাদেশে প্রথম আমের চাষ শুরু হয় পাহাড়ি অঞ্চলে, ধীরে ধীরে সারা বাংলাদেশে এর বিস্তার ঘটে। তবে আমের পিতৃভূমি বলতে রাজশাহী-চাপাইনবাবগঞ্জকেই বলা চলে। আম ছাড়া জৈষ্ঠ্য আর বৃষ্টি ছাড়া বর্ষাকাল যেন একইভাবে অনর্থক বলা চলে।

কাঁঠাল কেন বাংলাদেশের জাতীয় ফল, তা নিয়ে রম্য রসাত্মক গল্প চলে মাঝে মাঝেই। কে জানে, ঈশ্বরের সেই উপাধি বণ্টনের মতো কি না, না কোনো যুক্তি-তর্কের প্লট আছে। তবে একটা কথা সত্যি, কাঁঠাল একমাত্র ফল, যা কুঁড়ি অবস্থা থেকে শুরু করে পাকা অবস্থা অব্দি কোনো কিছুই ফেলা হয় না। এমনকি কাঁঠালের পাতাও। কাঁঠালের স্বাদ-ঘ্রাণ এমনকি ঔষধিগুন নিয়ে অনেক বলা যায়, জানেনও অনেকেই।

আজ শুধু কাঁঠালের জ্যাকফ্রুট হওয়ার গল্প দিয়ে শেষ করবো। রম্য গল্পে বলা আছে, একদল ইংরেজ পরিব্রাজক বনে-বাঁদারে ঘুরছিলেন। গহীন বন। হঠাৎ তাদের নাকে একটা সুমিষ্ট গন্ধ এলো। এদিক ওদিক খুঁজে ঘ্রাণের উৎস পেলেন, তারা দেখলেন একটা গাছে কী যেন ঝুলছে, সারা গাঁয়ে কাঁটা কাঁটা, অদূরেই দেখলেন একই কয়কেটা শেয়াল একসাথে গোল হয়ে কি যেন খাচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখলেন শেয়ালদের খাবার আর গাছে ঝুলন্ত জিনিসটা দেখতে একইরকম। মনে হল এটা কোন ফল। তার একটা নাম দেওয়া দরকার। যেহেতু শেয়ালের খাদ্য এই ফলটি তাই তার নাম জ্যাকফ্রুটই দেওয়া যায়। সেই থেকে কাঁঠাল হয়ে গেলে জ্যাকফ্রুট।

কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। স্কটিশ নাগরিক উইলিয়াম জ্যাক, একজন খ্যাতনামা উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। কাজ করতেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে। সেই আমলে জগদ্বিখ্যাত উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মধ্যে জ্যাক ছিলেন তারকা কাতারে। নতুন ফল হিসেবে কাঁঠালকে যখন পাওয়া গেলো, তখন তার নাম বোটানিক ইন্ডেক্সে প্রবেশ করানো দরকার মনে করে একটা নাম রাখার তাগিদ এলো, প্রস্তাবও এলো। চিকিৎসক এবং প্রকৃতিবিদ গার্সিয়া দে অর্টা তার ১৫৬৩ সালে সম্পাদিত গ্রন্থ কলাকুইওস ডস সিম্পল ই ই দ্রোগাস দ্য ইন্ডিয়াতে ব্যবহার করেছিলেন ফলটির কথা। শতাব্দীকাল পরে, উদ্ভিদবিজ্ঞানী রাল্ফ র্যান্ডেলস স্টুয়ার্ট পরামর্শ দেন যে এর নাম উইলিয়াম জ্যাকের নামে দেওয়া হোক। সেই থেকে কাঁঠাল আমাদের কাছে জ্যাকফ্রুট হয়ে প্রচলিত হলো।

কেআরআর

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: