লকডাউনকে ঘিরে শঙ্কিত নন গার্মেন্টস মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত‌্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় সোমবার (৫ এপ্রিল) এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। ওই লকডাউন শেষ হচ্ছে ১১ এপ্রিল। এরপর নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল থেকে একসপ্তাহের জন‌্য পূর্ণাঙ্গ লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। তবে, এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্প-কারখানা খোলা রাখার নির্দেশ নিয়েছে সরকার। লকডাউনের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানি শিল্পের মালিকরা। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প-কারখানাগুলোতে তাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। লকডাউনকে ঘিরে তেমন শঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন তারা।

বেশ কিছু গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে করোনার সংক্রামণের পর থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শিল্প-কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কারখানার কার্যক্রম পরিচানার ক্ষেত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রে প্রয়োজন রয়েছে। এই সময়ে ওই দোকানগুলো বন্ধ থাকলে সেসব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলো পেতে কিছুটা বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন তারা। এছাড়া লকডাউনে অফিস স্টাফদের যাতায়ত ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকছে না। তাই লাকডাউনে কারখানা পরিচালনায় তেমন সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন তারা।

তবে, ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গার্মেন্টস মালিকরা। এ ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সহযোগিতা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে টেকনিক্যাল সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

এদিকে রোববার (৪ এপ্রিল) সকালে করোনা সংক্রমণরোধে সরকার ১১টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে শিল্প-কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে, ‘শিল্প-কারখানা ও নির্মাণকার্য চালু থাকবে। শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া করতে হবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে শিল্প-কারখানা এলাকায় নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে তাদের শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল বা চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।’

দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখার লক্ষ্যে গার্মেন্টস কারখানাগুলো চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক। সরকারি দিকনির্দেশনা কঠোরভাবে পরিপালন করে দেশের তৈরি পোশাকখাতের কারখানা খোলা থাকবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

লকডাউনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এমবি নিট ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাশেম বলেন, ‘অমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ইতোমধ্যে কারখানা চালাচ্ছি। তবে, স্বাস্থ্যবিধি পরিচালনের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা ছিল। এখন এটাকে আরও কঠোরভাবে পরিপালন করা হবে। এবারের লকডাউনকে নিয়ে শঙ্কা নেই। লকডাউনে আমাদের মুভমেন্ট অর্থাৎ অফিস স্টাফদের যাতায়ত, পণ্য পরিবহন ইত্যাদি বিষয় লকডাউনে বন্ধ থাকবে না। সেক্ষেত্রে লকডাউন সময়কালে কারখানা পরিচালনায় আশা করছি তেমন সমস্যা হবে না। তবে লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকবে। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটায় কিছুটা বাধার সম্মুখীন হবে।’

মোহাম্মদ হাশেম আরও বলেন, ‘কর্মীদের মধ্যে যদি করোনা সংক্রামণের হার বেড়ে যায়, তাহলে তাদের চিকিৎসার জন্য ফিল্ড হাসপাতাল ব্যবস্থা করতে হবে। এটা তৈরিতে সরকারের সহযোগিতা লাগবে। এছাড়া কর্মীদের কারখানায় আসা-যাওয়ায় কোনো সমস্যা হবে না। তারপরও আমরা পরিবহনের ব্যবস্থা রেখেছি। সার্বিকভাবে আমাদের লকডাউন পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।’

এদিকে, এবিএ গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান মৃধা বলেন, ‘গত বার করোনা পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস যেভাবে চলেছে, এবারও সেভাবেই চলবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কারখানার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, লকডাউনের মধ্যে শিল্প-কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না।’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: