লকডাউন আতঙ্কে নিত্যপণ্য মজুদের হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা সংক্রমণের হার ভয়াবহ। এক সপ্তাহের লকডাউনের শেষ হতে না হতেই এবার সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা এসেছে। ফলে নিত্যপণ্য কেনার হিড়িক পড়েছে।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানালেন, একমাত্র পয়সাওয়ালারাই বেশি বেশি করে পণ্য মজুদ করছে। সেই তুলনায় নিম্নআয়ের মানুষ গুলো পণ্য কিনতে পারছে না।

রাজধানীর শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ‌ করে এতথ্য জানা গেছে।

শনিবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে শনির আখড়া বাজারে কথা হয় পাইকারি নিত্যপণ্যের দোকান ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার হাসান শাওন এর সঙ্গে।

আলাপকালে তিনি জানান, গত দুইদিন যাবত অন্যান্য দিনের তুলনায় বিক্রি অনেক বেড়েছে। তবে যারা নিয়মিত স্বল্প কেনাকাটা করেন তাদেরকে দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে যারা মাসিক কেনাকাটা করেন তারাই বাজারে অতিরিক্ত কেনাকাটা করছেন।

এ সময় পাশেই দেখা গেল নিত্যপণ্যের স্তুপ । ক্রেতা মিরাজ জানালেন, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ থেকে এক বস্তা ছোলা, এক বস্তা ডাল, এক মণ পেঁয়াজ, একমণ আলু, ৮ লিটার ওজনের পাঁচটি সয়াবিন তেলের জার কিনেছেন। এছাড়া ২৪ টি মুরগিসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের জন্য আরেকজন বাজারে ঢুকেছেন।

এত বেশি মালামাল কেনার কারণ জানতে চাইলে মিরাজ বলেন, সামনের রমজান মাস বিপরীত দিকে দেশে কঠিন লকডাউন হবে বলে শোনা যাচ্ছে। এজন্য স্যার (একটি প্রপার্টিজের উদ্যোক্তা) রোজার মাসের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে পাঠালেন।

যাত্রাবাড়ী সামাদ সুপার মার্কেটে নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে বেশ ভিড়। মার্কেটের ঢাকা মনিহারির ম্যানেজার আবুল হোসেন বলেন, ভাই কথা বলার সময় নেই যা বলার সংক্ষেপে বলুন। বেচাকেনা কেমন প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, বেশ কয়েকদিন খুব মন্দা গেছে। এখন দম ফালানোর সময় নাই। হঠাৎ বিক্রির চাপ বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কঠিন লকডাউন আসছে। তাই টাকাওয়ালারা মালামাল কিনছে। যার টাকা নাই তারা মার্কেটে আসছে না। তাছাড়া সামনে রোজা তাই বেচাকেনার ভিড় লেগে আছে।

বাজারে আসা আরো অনেক ক্রেতা ও বিক্রেতাদেরও একই ভাষ্য, রমজান আর কঠিন লকডাউন- দুটি বিষয়কে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে ভিড় বেড়েছে। যাদের আর্থিক সক্ষমতা বেশি তারাই এখন বাজারে । অন্যদিকে বাজারের ক্রেতার চাপ বেশি থাকায় নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে।

কাপ্তানবাজারের শরীয়তপুর বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী হাজী আব্দুল করিম বললেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এসময়ে ব্যবসায়ীদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ যাচ্ছে। বছরের দুই-তিনটা মৌসুমে বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি হয়। রোজা- এর মধ্যে অন্যতম একটি । সামনে রমজান মাস, এখনই বেচাকেনার উপযুক্ত সময়। আর এই সময়ে লকডাউন পড়ছে । লকডাউনের সবকিছু বন্ধ থাকবে শুনে কিছু লোক অতিরিক্ত মালামাল কিনছে। তারা কিন্তু সব সময়ের কাস্টমার না। আমরা নিয়মিত বেচাকেনা করতে চাই। সর্বাত্মক লকডাউনেও নিত্যপণ্যের দোকান খোলা রাখার দাবি আমাদের।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: