সাভারে জোড়া লাগানো যমজ কন্যা শিশুর জন্ম

উপজেলা প্রতিবেদক

ঢাকার সাভারে পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ কন্যা শিশুর জন্ম হয়েছে। দুই দিন আগে রাজধানীর শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালে নবজাতক শিশু ও তাদের মাকে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু দুটি সুস্থ্য থাকলেও তাদের মা কিছুটা অসুস্থ্য বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার রাতে এসব কথা জানান সদ্য জন্ম নেয়া যমজ শিশুর স্বজনরা। শিশু দুটির সম্পর্কে চাচা দেলোয়ার হোসেন ভিডিওসহ ছবিও প্রেরণ করেন।

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে সাভারের সুপার মেডিকেল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়।

যমজ শিশুটির মা সাথী আক্তারের (৩৫) আগেও ১৫ ও ৮ বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। বাবা মো. সেলিম রাজধানীর একটি ওয়ার্কসপে চাকরি করেন। সেলিম পরিবার নিয়ে সাভারের আশুলিয়ায় পলাশবাড়ী বাজার এলাকায় নুরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

যমজ শিশু দুটির চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই অনেকদিন প্রবাসে ছিলেন। ৪-৫ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু তেমন কোন পুঁজি না থাকায় ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে অল্প বেতনে চাকরি নেন। সিনথিয়া ও নাদিয়া নামে তার দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। গত ১৮ তারিখ বিকেলে সাভার সুপার হাসপাতালে আমার ভাবী দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দেন। ওই সময় আমরা জানতে পারি, জন্ম নেয়া শিশু দুটির পশ্চাদপদ জোড়া লাগানো। তবে ডেলিভারির আগেও আল্ট্রাসনোতে বাচ্চা যমজ দেখা জানতে পারলেও জোড়া লাগানোর বিষয়টি জানা যায়নি।

যমজ শিশু দুটির বাবা মো. সেলিম বলেন, ১৮ তারিখ সাভারের সুপার হাসপাতালে আমার স্ত্রীর দুইটা যমজ বাচ্চা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে ঢাকার শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা নাই জানিয়ে তাদের রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানেও আইসিইউ নাই জানিয়ে তাদের আবারো ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আবারো সাভারের সুপার হাসপাতালে আসি। ওই দিনই ১৯ অক্টোবর আবারো শিশু হাসপাতালে এনে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হইছে। সুপার হাসপাতালে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিল দিছি। আর শিশু হাসপাতালে এই কয় দিনে আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হইছে। আত্মীয়স্বজনদের কাছে সহযোগিতা নিয়ে এই টাকা পরিশোধ করছি। এখন এই অবস্থা হলে আমার বাচ্চা দুইটার চিকিৎসা করবো কিভাবে? শেষ পর্যন্ত আমার বাচ্চা দুইটার কপালে কি আছে জানি না!

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!