সাভারে মায়ের সম্ভ্রম রক্ষার মাশুল গুণতে হলো ছেলেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারে মায়ের সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে চিহ্নিত চাঁদাবাজদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ছেলে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৯ জুলাই) রাতে নির্যাতনের শিকার ছেলের মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে গত ৭ জুন সাভারের রেডিও কলোনী ভাটপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মা সাভারের ভাটপাড়া এলাকায় মানুষের বাসায় কাজ করতো। তার ছেলে একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযুক্তরা হলেন, সাভারের ভাটপাড়া এলাকার সিকম আলীর ছেলে আজিজুল হাকিম (৪০) ও তার গাড়ির চালক শামসুল ইসলাম (৩৫)।

এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকমাস ধরেই স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীকে মুঠোফোনে কুপ্রস্তাব দিতো ও রাস্তায় উত্ত্যক্ত করতো অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে গত পরশুদিন (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর বাসায় এসে তাকে জাপটে ধরে বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয় তারা। এতে ভুক্তভোগী ডাক-চিৎকার করলে রাস্তা থেকে এসে তার ছেলে ওই ড্রাইভারকে বাঁশ দিয়ে বাড়ি দেয়।

এ ঘটনার জেরে দুইদিন পর (৯ জুলাই) ভাটপাড়া দিয়ে যাওয়ার পথে ভুক্তভোগীর ছেলেকে আটকে নিজের অফিসে নিয়ে যায় হাকিম ও তার সঙ্গীরা। এসময় ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে মারধর করে মাথার চুল কামিয়ে দিয়ে মায়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে ওই মা ধার করে প্রথমে ২৩০০ ও পরে ২৪০০ টাকা দেন। এতেও পুরো টাকা আদায় না হলে ছেলের মুঠোফোন কেড়ে নেয় অভিযুক্তরা।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত হাকিম ওই এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট, বিচারের নামে জরিমানা আদায়, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। এজন্য তার নিজস্ব বাহিনী রয়েছে। হাকিমের প্রভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন তার গাড়ির চালকও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মাসে লিপি আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগের পর কাউন্সিলরের মধ্যস্ততায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা গুনেছিলেন হাকিম। এছাড়া আরেক বাসিন্দা শাহীন আলমের নির্মাণাধীন ভবন থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসীর মধ্যস্ততায় সে পিছু হটে।

এছাড়াও ওই এলাকায় নতুন বাড়ি করলে ইট, বালু, সিমেন্ট, মিস্ত্রি সবই তার কাছ থেকেই নিতে হয়। এসবের জন্য সাজু, মিলন, সাইদুল ও মানিক নামের সহযোগিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব না নিলেই কাজ বন্ধ করে দেয় হাকিম।

এক বিচারে হাকিমের অফিসে উপস্থিত বৃদ্ধ শাহজাহান বলেন, আমি হাকিমের অফিসে ছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি গন্ডগোল। বিচার করেছে হাকিম, ইয়াছিন মাতবর ও রায়হানসহ আরও কয়েকজন। আমি জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে। তারা বলে একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। এক ছেলেকে মেরেছে তার জন্য রাসেলকে ধরে মারছি চুলও কেটে দিয়েছি। তারা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। আমি বললাম তারা গরিব মানুষ এতো টাকা কিভাবে দেবে? পরে দিয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকা। পরে তার মোবাইলটাও রেখে দিয়েছে।

তবে ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত আজিজুল হাকিম। তিনি বলেন, আমি চুল কাটি নাই, মাদবররা কাটছে। সে মারামারি করেছিল তাই তার বিচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগই পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। এরপর মামলা নেয়া হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!