সেলামির নতুন নোটের বাজারে হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে এবারও ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হচ্ছে। ঈদের দিনে শিশুদের সেলামি দেওয়া বাঙালি মুসলমানের রীতি। সেলামির টাকা হিসেবে নতুন নোট পেলে খুশি হয় শিশুরা। তাই ঈদের আগে সাভারে প্রতিবছর নতুন নোট বিক্রির ব্যবসা জমে ওঠে। তবে এ বছর নতুন নোটের তেমন চাহিদা নেই।

সাভার ও আশুলিয়ায়ায় ফুটপাতে নতুন নোটের দোকানে ব্যবসায়ীদের অলস বসে থাকতে দেখা গেছে। নতুন নোটের মূল্যও কমিয়ে দিয়েছেন তারা। তবুও ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না।

সাভারের অন্ধমার্কেটের সামনে নতুন নোট বিক্রি করছিলেন আলী আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, করোনার কারণে নতুন নোট বিক্রি কমে গেছে গত বছরের ঈদ থেকে। যাদের বেশি প্রয়োজন শুধু তারাই আসছেন নতুন নোট নিতে। করোনার আগে যে পরিমাণ বিক্রি হতো, করোনা শুরু পর থেকে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

আশুলিয়ার পল্লিবিদ্যুৎ এলাকার নতুন নোট ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ৫০ টাকার নোটের ১০০টির বান্ডিল ৫ হাজার ১৫০ থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায় বিনিময় হচ্ছে। ২০ টাকার নোটের ১০০টির বান্ডিল ২ হাজার ৫০ টাকা, ৫০০ ও ১০০০ টাকার ১০০টির বান্ডিলের জন্য দিতে হচ্ছে বাড়তি ২০০ টাকা। ৫ টাকার নতুন নোট সরবরাহ কম থাকায় দাম একটু বেশি।

সাভারের আরেক নতুন টাকার বিক্রেতা আলমাস হোসেন বলেন, করোনার কারণে ব্যবসা খুব খারাপ। গত রোজার ঈদ থেকে শুরু হয়েছে এ অবস্থা। ঈদের আগে সাধারণ সময়ে যে পরিমাণ নতুন নোট বিক্রি হতো, এখন তার চেয়ে অল্প বেড়েছে। বিগত সময়ে ঈদের আগে যে পরিমাণ নোট বিক্রি হয়েছে, তা অর্ধেকে নেমে এসেছে করোনাকালীন ঈদে।

তবে নতুন নোটের দাম বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তারা বলেন, ক্রেতার সংখ্যা বাড়লেই বিনিময় মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। এক ক্রেতা বলেন, ১০ টাকার ১০০টি নোটের বান্ডিল কিনেছেন ১ হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে। তার অল্প কিছুক্ষণ আগে আরেক ক্রেতা ১০ টাকার ১০০টি নোটের বান্ডিল কিনেছেন ১ হাজার ১৮০ টাকা দিয়ে।

তবে বিক্রেতারা জানান, তারা দাম বেশি নিচ্ছেন না। যে দামে কিনেছেন, তার সঙ্গে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: